ফুপার্স কিচেনের রেসিপি
English অসমীয়া हिन्दी বাংলা
- মাছের টেঙা (অসমিয়া টক মাছ) — পাকা টমেটো আর লেবুর রসে রাঁধা অসমের প্রিয় হালকা, টক মাছের ঝোল। গরমকালে ভাতের সঙ্গে মন জুড়ানো খাবার।
- ঔটেঙা মাছ (চালতা দিয়ে মাছ) — অসমের বর্ষার বিশেষ পদ — চালতা (ঔটেঙা) দিয়ে রাঁধা মাছ, ফলের মতো মৃদু টক স্বাদ।
- মাছ আর খরিচা (বাঁশের কোঁড় দিয়ে মাছ) — গাঁজানো বাঁশের কোঁড় (খরিচা) দিয়ে রাঁধা মাছ — ঝাঁঝালো গন্ধ, টক আর একেবারে অসমিয়া।
- মাছ আর লাই শাক (সর্ষে শাক দিয়ে মাছ) — নরম সর্ষে শাক দিয়ে রোজকার হালকা অসমিয়া মাছের ঝোল — মাটির গন্ধ, সামান্য তেতো আর ভীষণ তৃপ্তির।
- থেকেরা টেঙা মাছ (অসমিয়া টক মাছ) — শুকনো থেকেরা (অসমিয়া কোকম/গার্সিনিয়া) দিয়ে বানানো পাতলা, স্বচ্ছ টক ঝোলে রুই — গরমের দুপুরে প্রত্যেক অসমিয়া ঠাকুমার ভরসার টেঙা।
- পাতত দিয়া মাছ (কলাপাতায় মাছ) — কাঁচা সর্ষে বাটা, পেঁয়াজ আর কাঁচা লঙ্কায় মাখানো মাছ কলাপাতায় মুড়ে ধোঁয়াটে স্বাদ না আসা পর্যন্ত রাঁধা — অসমের নিজস্ব পাতুরি।
- মাছ পিটিকা (মাছের ভর্তা) — আগুনে সেঁকা মাছ কাঁচা সর্ষের তেল, পেঁয়াজ আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে হাতে মাখা — অসমিয়া থালির শুরুর সাদামাটা পিটিকা।
- মাছের ডিমের বড়া (মাছর কণীর বরা) — পেঁয়াজ আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে রুই মাছের ডিমের মুচমুচে ছোট বড়া — বসন্তের যে স্বাদের জন্য অসমিয়া বাড়িগুলো অপেক্ষা করে।
- পুঁটি মাছ ভাজা — ছোট পুঁটি মাছ মুচমুচে করে ভেজে পেঁয়াজ আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে নেড়ে নেওয়া — কুড়মুড়ে, কাঁটাওয়ালা আর থামা অসম্ভব।
- মাছ আর কচু (কচু দিয়ে মাছ) — নরম কচু আর একটু লেবু দিয়ে রাঁধা রুই — বর্ষার দিনের ঘরোয়া, আরামের অসমিয়া ঝোল।
- মাছের মাথা দিয়ে মাটিমাহর ডাল (কলাইয়ের ডাল) — ভাজা রুই মাছের মাথা দিয়ে রাঁধা খোসাওয়ালা বিউলির ডাল — ঘন, ধোঁয়াটে আর অসমিয়া রবিবারের বিলাসিতা।
- ইলিশ মাছের টেঙা (অসমিয়া টক ইলিশ) — ইলিশের অসমিয়া রূপ — থেকেরা দিয়ে ঝাঁঝালো করা পাতলা, টক টমেটোর টেঙা, যাতে মাছের স্বাদটাই সামনে থাকে।
- সর্ষে ইলিশ — বাঙালি রান্নার মুকুট — ঝাঁঝালো সর্ষের ঝোলে ইলিশ, শেষে কাঁচা সর্ষের তেল।
- দই মাছ — মশলাদার দইয়ের ঝোলে ভাজা রুই — উৎসবের ঘন, হালকা মিষ্টি বাঙালি পদ।
- মাছের ঝোল — আলু দিয়ে রোজকার ঘরোয়া বাঙালি পাতলা মাছের ঝোল — হালকা, প্রাণ জুড়ানো আর ভাতের জন্যই তৈরি।
- চিংড়ি মালাইকারি — নারকেলের দুধে রাঁধা রাজকীয় বাঙালি চিংড়ির পদ, হালকা মিষ্টি আর গোটা মশলার সুবাসে ভরা।
- ভেটকি পাতুরি — সর্ষে-নারকেল বাটায় মাখানো ভেটকির ফিলে কলাপাতার পুঁটলিতে ভাপে রাঁধা।
- তেল কই — পেঁয়াজ আর গোটা মশলা দিয়ে ঘন, তেলালো লাল ঝোলে বাঙালি কই মাছ — উৎসবের প্রিয় পদ।
- ইলিশ ভাপা — সর্ষে, নারকেল আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে বন্ধ কৌটোয় ভাপে রাঁধা ইলিশ — বাঙালি বাড়িতে ইলিশ রাঁধার সবচেয়ে প্রিয় উপায়।
- ইলিশ পাতুরি — সর্ষে-নারকেল বাটা দিয়ে কলাপাতায় মোড়া ইলিশ, তাওয়ায় সেঁকা যতক্ষণ না পাতা পোড়ে আর তেল চুঁইয়ে বেরোয়।
- ইলিশ ভাজা — শুধু ইলিশ, হলুদ, নুন আর সর্ষের তেল — সোনালি করে ভেজে গরম ভাত, ভাজার তেল আর একটা কাঁচা লঙ্কার সঙ্গে খাওয়া।
- কালোজিরে বেগুন দিয়ে ইলিশের পাতলা ঝোল — বেগুন, কালো জিরে আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে পাতলা, হালকা ইলিশের ঝোল — পেঁয়াজ নেই, রসুন নেই, মাছের স্বাদ ঢাকার কিছুই নেই।
- দই ইলিশ — হালকা মিষ্টি ভাবের মোলায়েম দই-সর্ষের ঝোলে রাঁধা ইলিশ — নরম, উৎসবের আর একেবারে কলকাতার।
- ইলিশ পোলাও — ইলিশের গন্ধমাখা তেলে রাঁধা সুগন্ধী গোবিন্দভোগ চাল, দইয়ে মাখানো নরম ইলিশের স্তরে — বিশেষ দিনের জমকালো পদ।
- ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচু শাক — ভাজা ইলিশের মাথা আর নারকেল দিয়ে রাঁধা কচু শাক — বাংলার গ্রামের মিতব্যয়ী, গভীর স্বাদের ঐতিহ্যবাহী পদ।
- ইলিশ মাছের টক — তেঁতুল আর গুড়ে টক-মিষ্টি ইলিশের ল্যাজা — বাঙালি ইলিশ ভোজের মুখ পরিষ্কার করা শেষ পদ।
- ইলিশ মাছের ডিম ভাজা — বাইরে মুচমুচে, ভেতরে নরম ইলিশের ডিম ভাজা — বর্ষার যে স্বাদ নিয়ে প্রত্যেক ইলিশপ্রেমী কাড়াকাড়ি করে।
- কুকুরা আর কল পচলা (থোড় দিয়ে মুরগি) — নরম কলার থোড় দিয়ে গ্রাম্য অসমিয়া মুরগির ঝোল — হালকা, মাটির গন্ধ আর গ্রামের স্বাদে ভরা।
- কুকুরা আর কালো তিল (কালো তিলের মুরগি) — ভাজা কালো তিলের ঘন, বাদামি স্বাদের কালচে ঝোলে মুরগি — অসমিয়া আর বোড়ো ঐতিহ্যের প্রিয় পদ।
- কুকুরা আর কোমোরা (চালকুমড়ো দিয়ে মুরগি) — চালকুমড়ো গলে হালকা, একটু মিষ্টি ঝোল না হওয়া পর্যন্ত ঢিমে আঁচে রাঁধা মুরগি — বিহুর বিখ্যাত হাঁস-কুমড়োর রোজকার রূপ।
- কুকুরা আর অমিতা (কাঁচা পেঁপে দিয়ে মুরগি) — কাঁচা পেঁপে দিয়ে হালকা অসমিয়া মুরগির ঝোল — পেঁপে মাংস নরম করে আর আদা-রসুনের ঝোল শুষে নেয়।
- কুকুরা আর বাঁহগাজ (বাঁশের কোঁড় দিয়ে মুরগি) — টাটকা বাঁশের কোঁড় আর থেঁতো গোলমরিচ (জালুক) দিয়ে মুরগি — পরিষ্কার, ঝাঁঝালো আর একেবারে অসমিয়া।
- মুরগির ঝোল — আলু দিয়ে চিরাচরিত বাঙালি রবিবারের মুরগির ঝোল — ভাতের জন্য তৈরি পাতলা, সুগন্ধী ঝোল।
- চিকেন রেজালা — কলকাতার মোগলাই ঘরানার সাদা মুরগির পদ — দই, কাজু আর মৃদু গোটা মশলায় সমৃদ্ধ।
- বাটার চিকেন — মোলায়েম টমেটো, মাখন আর ক্রিমের ঝোলে ধোঁয়াটে তন্দুরি ধাঁচের মুরগি — ভারতের সবচেয়ে প্রিয় কারি।
- চিকেন চেট্টিনাড — টাটকা ভাজা মশলা, নারকেল আর গোলমরিচে তৈরি তামিলনাড়ুর ঝাল মুরগির কারি।
- মাংস আর আলু (অসমিয়া পাঁঠার মাংস) — আলু দিয়ে অসমিয়া ধাঁচের পাঁঠার মাংস — মশলা কম, সর্ষের তেল আর আদা বেশি; বাড়ির রবিবার।
- কষা মাংস — বাংলার কিংবদন্তি ঢিমে আঁচে রাঁধা পাঁঠার মাংস — গাঢ়, চকচকে আর ধৈর্য ধরে কষানো মশলার স্বাদে ভরপুর।
- কলকাতা মাটন বিরিয়ানি — নরম মাংস, বিখ্যাত আলু আর আস্ত সেদ্ধ ডিম দিয়ে কোমল, সুগন্ধী কলকাতা বিরিয়ানি।
- কাশ্মীরি রোগান জোশ — উজ্জ্বল লাল ঝোলে কাশ্মীরি মাংস, মৌরি আর শুকনো আদার সুবাস — সমৃদ্ধ কিন্তু ঝাল নয়।
- লাল মাস — রাজস্থানের রাজকীয়, আগুনঝাল লাল মাংস — মাথানিয়া লঙ্কা আর ঘিয়ে ধোঁয়াটে।
- গাহরি আর খরিচা (বাঁশের কোঁড় দিয়ে শুয়োরের মাংস) — গাঁজানো বাঁশের কোঁড় দিয়ে অসমিয়া শুয়োরের মাংস — টক, চটপটে আর গরম ভাতের সঙ্গে ছাড়া যায় না।
- গাহরি আর কালো তিল (কালো তিলের শুয়োরের মাংস) — ঘন, গাঢ়, বাদামি স্বাদের কালো তিলের ঝোলে শুয়োরের মাংস — অসমের সবচেয়ে আদরের পদগুলোর একটা।
- গাহরি আর লাই শাক (সর্ষে শাক দিয়ে শুয়োরের মাংস) — থালায় অসমের শীত — টাটকা সর্ষে শাক দিয়ে রাঁধা শুয়োরের মাংস, যতক্ষণ না শাক সব চর্বি শুষে নেয়।
- গাহরি ভূত জোলোকিয়া ফ্রাই — বিখ্যাত ভূত জোলোকিয়া দিয়ে শুকনো শুয়োরের মাংস ভাজা — ধোঁয়াটে, মুচমুচে ধার আর উত্তর-পূর্বের আসল ঝাল।
- গাহরি আর অমিতা (কাঁচা পেঁপে দিয়ে শুয়োরের মাংস) — কাঁচা পেঁপে, আদা আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ঢিমে আঁচে রাঁধা চর্বিওয়ালা শুয়োরের মাংস — সাদামাটা, ভীষণ প্রিয় অসমিয়া পদ।
- গাহরি আর কচু (কচু দিয়ে শুয়োরের মাংস) — শুয়োরের মাংস আর কচু একসঙ্গে রাঁধা, যতক্ষণ না কচু ভেঙে ঘন, রেশমি ঝোল হয় — অসমের আদরের গ্রাম্য রেসিপি।
- নাগা স্মোকড পর্ক উইথ ব্যাম্বু শুট — নাগাল্যান্ডের পরিচয় — গাঁজানো বাঁশের কোঁড় আর আগুনঝাল রাজা মির্চা দিয়ে রাঁধা ধোঁয়ায় শুকোনো শুয়োরের মাংস। তেলের দরকার নেই।
- আখুনি পর্ক (নাগা) — আখুনি (গাঁজানো সয়াবিন) দিয়ে রাঁধা শুয়োরের মাংস — ঝাঁঝালো, গভীর স্বাদ; সুমি নাগা রান্নার প্রাণ।
- অমা বেদর আর নারজি (বোড়ো পাটপাতার শুয়োরের মাংস) — বোড়োদের বিশেষ পদ — শুকনো পাটপাতা (নারজি) দিয়ে শুয়োরের মাংস, একটু তেতো আর দারুণ মাটির স্বাদ।
- মিজো ভক্সা বাই — শাক আর বাঁশের কোঁড় দিয়ে মিজোরামের আরামের শুয়োরের মাংসের স্ট্যু — মৃদু, ঝোলঝোলে, প্রায় তেলহীন।
- দোহ নেইয়ং (খাসি কালো তিলের শুয়োরের মাংস) — কালো তিল বাটায় মেঘালয়ের বিখ্যাত শুয়োরের মাংস — মাটির স্বাদ, ধোঁয়াটে আর জাদোহর সঙ্গে সবচেয়ে ভালো।
- জাদোহ (খাসি শুয়োরের মাংসের ভাত) — শুয়োরের মাংস, হলুদ আর গোলমরিচ দিয়ে রাঁধা মেঘালয়ের বিখ্যাত লাল চালের ভাত — এক হাঁড়িতেই পুরো খাবার।
- নাগা পর্ক উইথ আনিশি — আও নাগাদের রত্ন — আনিশি (গাঁজানো ও ধোঁয়ায় শুকোনো কচুপাতার পিঠে) দিয়ে রাঁধা শুয়োরের মাংস, গভীর ধোঁয়াটে ঝোল।
- ওয়াহান মোসডেং (ত্রিপুরি শুয়োরের মাংসের স্যালাড) — ত্রিপুরার বিখ্যাত ঝাল স্যালাড — সেদ্ধ, সেঁকা শুয়োরের মাংস পোড়া লঙ্কা, পেঁয়াজ আর টাটকা পাতার সঙ্গে মাখা।
- অমিতার খার (কাঁচা পেঁপের খার) — কলার খোসা পোড়ানো ক্ষারীয় জল 'খার' দিয়ে রাঁধা কাঁচা পেঁপে — প্রত্যেক অসমিয়া খাবারের পরিচিত প্রথম পদ।
- আলু পিটিকা (অসমিয়া আলু ভাতে) — কাঁচা সর্ষের তেল, পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা আর ধনেপাতা দিয়ে মাখা সেদ্ধ আলু — পাঁচটা উপকরণ, খাঁটি অসমিয়া আরাম।
- বেঙেনা পিটিকা (অসমিয়া বেগুন পোড়া) — খোলা আগুনে ধোঁয়াটে করে পোড়ানো বেগুন, কাঁচা রসুন, পেঁয়াজ আর সর্ষের তেল দিয়ে মাখা।
- ঢেঁকি শাক ভাজা — রসুন আর আলু দিয়ে ভাজা ঢেঁকি শাকের কচি ডগা — অসমের নদীর পাড়ের বসন্তকালীন বুনো শাক।
- ঔটেঙা ডাল (চালতার টক ডাল) — চালতা দিয়ে রাঁধা মুসুর ডাল — হালকা, টক অসমিয়া ডাল; গুমোট দিনে মন তাজা করে।
- লাই শাক ভাজা (সর্ষে শাক) — সর্ষের তেলে অনেকটা রসুন দিয়ে নেতিয়ে নেওয়া সর্ষে শাক — একটু তেতো, ভীষণ সবুজ আর একেবারে অসমিয়া।
- কল পচলা ভাজি (থোড় ভাজা) — রসুন আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ভাজা মিহি কুচোনো কলার থোড় — হালকা, আঁশযুক্ত আর প্রত্যেক অসমিয়া রান্নাঘরে প্রিয়।
- শুক্তো — সর্ষে, আদা আর দুধে তেতো-মিষ্টি মিশ্র সবজির পদ, যা দিয়ে প্রথাগত বাঙালি ভোজ শুরু হয় — পেঁয়াজ নেই, রসুন নেই, হলুদ নেই।
- আলু পোস্ত — কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মোলায়েম পোস্ত বাটায় আলু — পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া রোজকার ভীষণ প্রিয় বাঙালি পদ।
- ছোলার ডাল — নারকেলের টুকরো, কিশমিশ আর ঘি দিয়ে একটু মিষ্টি বাঙালি ছোলার ডাল — গরম লুচির উৎসবের সঙ্গী।
- ধোকার ডালনা — আলু দিয়ে আদা-জিরের ঘন ঝোলে ভাজা ডালের বরফি — বাঙালি নিরামিষ ভোজের মধ্যমণি।
- রাজমা মশলা — পেঁয়াজ-টমেটোর মশলায় ঢিমে আঁচে রাঁধা পাঞ্জাবি রাজমা — ঘন, ক্রিমি আর জিরে ভাতের সঙ্গে দারুণ।
- পনির বাটার মশলা — মাখনে ভরা, হালকা মিষ্টি টমেটো-কাজুর ঝোলে নরম পনির — নিরামিষ দিনের সেই ভোজ যাতে বাড়ির সবাই একমত।
- ডাল তড়কা — ঘি, রসুন, জিরে আর শুকনো লঙ্কার ছ্যাঁকছ্যাঁকে ফোড়নে হলুদ অড়হর ডাল — ধাবার ধাঁচে।